দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর প্রশাসনে রদবদলের গুঞ্জন উঠেছে। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর পদত্যাগের খবর নাকচ করেছে হোয়াইট হাউস।
ইরান যুদ্ধ পরিচালনায় হেগসেথের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে। নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়ের জন্যও এই যুদ্ধকে দায়ী করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে হেগসেথকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরানোর দাবি উঠেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো।
আগামী সপ্তাহের শুরুতেই হেগসেথের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনার হুমকি দিয়েছেন রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য থমাস ম্যাসি। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী এক ভিডিওবার্তায় নিজের কর্মকাণ্ডের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন এবং এ উদ্যোগের নিন্দা জানিয়েছেন।
হেগসেথ বলেন, ‘আপনারা দেখছেন, তারা আমাকে আক্রমণ করছে। আমাদের আক্রমণ করছে, কারণ আমরা কার্যকর। এতে কোনো কাজ হবে না। আমরা পিছু হটব না।’
অন্যদিকে, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ ছাড়ার কথা ভাবছেন বলে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা অস্বীকার করেছেন রুবিও।
নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত তার সঙ্গে কাজ করাই সব সময় তার পরিকল্পনা ছিল।
তিনি বলেন, ‘আমি যে কাজ করছি, তা ভালোবাসি। আর যখন শুনি, তিনি চাকরি ছাড়বেন, তখন আমি সব সময় হাসি। আমি বলি, কোন চাকরিটি?’
এ সপ্তাহের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর রুবিও পদত্যাগ করতে পারেন বলে খবর প্রকাশিত হয়। তবে হোয়াইট হাউস ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর উভয়ই এসব খবরকে ‘ভুয়া সংবাদ’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
তবে হেগসেথের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ার পর ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স উভয়েই ইরান যুদ্ধকে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের জন্য দায়ী করেছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে টেলিফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, হেগসেথকে নিয়ে তিনি বিভিন্নজনের কাছ থেকে ফোন পেয়েছেন। তবে তাকে পদে রাখার বিষয়ে তার ‘পূর্ণ ইচ্ছা’ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ‘পিট হেগসেথ অসাধারণ কাজ করেছেন।’
এ সময় তিনি হেগসেথের বিভিন্ন অর্জনের কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে আটক এবং আট মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধ।
তবে বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন অথবা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারকে সরিয়ে দেওয়ার কথা ভাবতে পারেন। ইরান যুদ্ধ পরিচালনায় দিকনির্দেশনা দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা দুজনই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
এদিকে, ট্রাম্পের কট্টর সমালোচক রিপাবলিকান প্রতিনিধি থমাস ম্যাসি হেগসেথের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনার পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক সংবাদমাধ্যম পলিটিকোকে তিনি বলেন, আগামী সপ্তাহের শুরুতেই প্রতিরক্ষামন্ত্রীর অভিশংসন প্রস্তাব উত্থাপনের উদ্যোগ নেবেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ম্যাসি বলেন, জানুয়ারিতে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে নতুন কংগ্রেস গঠিত হওয়ার আগেই ট্রাম্পের উচিত হেগসেথকে সরিয়ে দেওয়া।
তিনি লিখেছেন, ‘প্রতিস্থাপিত ব্যক্তিদের সিনেটে অনুমোদন পাওয়ার সুযোগ থাকা অবস্থায়ই তার এটি করা উচিত।’
এদিকে, টেনেসি অঙ্গরাজ্যের একটি শূন্য সিনেট আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহ রয়েছে হেগসেথের, এমন গুঞ্জনও ছড়িয়েছে।
নিজের ভিডিওবার্তায় হেগসেথ তার বিরুদ্ধে অভিশংসনের উদ্যোগকে ‘ভিত্তিহীন অভিশংসন প্রস্তাব’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, একজন ‘ক্ষুব্ধ ও পরাজিত কংগ্রেস সদস্য এবং তার সব ডেমোক্র্যাট মিত্র’ এ উদ্যোগ নিয়েছেন।
ভিডিওতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি বাস্তবায়নে তার নেতৃত্বে প্রতিরক্ষা দপ্তরের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন।
এর মধ্যে রয়েছে সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ বৃদ্ধি, প্রতিরক্ষা শিল্পভিত্তি পুনর্গঠন এবং বৈচিত্র্যবিষয়ক উদ্যোগগুলো বন্ধ করা।
ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা করে হেগসেথ বলেন, ‘তাদের নীতিগুলো কাজ করে না। তাই ক্ষমতার নামে রাজনৈতিক নাটক সাজানোর প্রতি তাদের আসক্তি প্রতিপক্ষকে ধ্বংস করার চেষ্টা চালাতে বাধ্য করে। এটি পুরোপুরি ব্যক্তিগতভাবে প্রতিপক্ষকে ধ্বংস করার রাজনীতি।’
/অ